News

নড়াইল/‘এখন আমি কোথায় মাথা গুঁজব’, হাসান হত্যার পর ভাঙচুর-আগুনে পুড়ল ১২ বাড়ি

‘আমার ছেলেরা কেউ বাড়িতে থাকে না। মেয়েকে নিয়ে আমি বাড়িতে বসবাস করি। এত কষ্ট করে তৈরি করা বাড়িটা কোন শত্রুতার কারণে পাষণ্ডরা ভেঙে ফেলেছে, জানি না। এখন আমি কোথায় মাথা গুঁজব?’

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া নিজের বাড়ির দিকে অশ্রুসিক্ত চোখে তাকিয়ে কথাগুলো বলছিলেন নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া গ্রামের তছিরুন নেছা (৫৫)।

হাসান শেখ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন তার শেষ আশ্রয়টুকু ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ তার। শুধু তার বাড়িই নয়, এলাকায় আরও ১২টি বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, এসব ঘটনায় তাদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বাড়িঘর হারিয়ে অনেক পরিবার এখন চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সোহেল মেম্বর ও আবেদ শেখের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন গুলি ছোড়েন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে সোহেল মেম্বরের পক্ষের হাসান শেখ (৪০) গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাসানের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর আবেদ শেখের পক্ষের লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান। এরপর কয়েক দফায় তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

তছিরুন নেছা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমার ছেলেরা কেউ বাড়িতে থাকে না। মেয়েকে নিয়ে আমি বাড়িতে বসবাস করি। অনেক কষ্ট করে বাড়িটা তৈরি করেছিলাম। জানি না কী অপরাধ করেছি, কেন আমার বাড়িটা ভেঙে ফেলল। এখন আমি কোথায় মাথা গুঁজব?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে বাড়ির কাছেও আসতে দেওয়া হচ্ছে না। বলে, বাড়ির কাছে এলে আমাকে মেরে ফেলবে। আমি খুব ভয় পাচ্ছি।’

তছিরুন নেছার মতো অন্য ভুক্তভোগীরাও বাড়িঘর হারিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, এলাকায় দুই পক্ষের বিরোধের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ সেই বিরোধের জেরে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

তারা বলেন, ‘এলাকায় ঝামেলা থাকতে পারে। কিন্তু তাই বলে মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও শেষ করে দিতে হবে? আমরা এখন কোথায় যাব?’

এদিকে, শনিবার দুপুরে নড়াগাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হোসেন আলীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে চারটি জানালা, একটি দরজা, একটি গ্রিল, একটি সেলাই মেশিন ও একটি পরিমাপযন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি মো. হোসেন আলী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘কলাবাড়িয়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। রাতের আঁধারে কয়েকটি বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। শনিবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। ভাঙচুরের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হাসান শেখ হত্যাকাণ্ডের পর একের পর এক বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কলাবাড়িয়া এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

source: Asia Post

আরো দেখুন
Close
Back to top button