News

ইউক্রেনে স্টারলিংকের গতি বাড়াতে মাস্ককে ফোন ট্রাম্পের

ইউক্রেনে ব্যবহৃত সামরিক কাজে উপযোগী স্টারলিংক স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থার ওপর আরোপিত গতি-সীমা তুলে নিতে ইলন মাস্ককে অনুরোধ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ফোনালাপের পর ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা কিছুটা বেড়েছে। তবে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগের পূর্ণ সক্ষমতা এখনো ফিরে আসেনি।

মার্কিন ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাতে পত্রিকাটি জানায়, স্টারলিংকের গতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মাইল বা ১৬০ কিলোমিটারে সীমিত রাখা হয়েছিল। এতে রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের কিছু আক্রমণাত্মক ড্রোন ও প্রতিরোধী ড্রোনের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ট্রাম্প এই সীমাবদ্ধতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মাস্ককে তা তুলে নিতে বলেন। এরপর গতি আগের সীমার তুলনায় বাড়লেও সব ক্ষেত্রে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক নিজেই ইউক্রেনের ব্যবহৃত সামরিক কাজে উপযোগী সংস্করণটির গতি কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে সিদ্ধান্তটি তিনি এককভাবে নিয়েছিলেন, নাকি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে— তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য এসেছে।

রয়টার্সও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছিল, সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউজ থেকে এসেছিল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যোগাযোগব্যবস্থায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নিজে গতি কমানোর নির্দেশ দেননি এবং কে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তিনি জানতেন কি না, সে বিষয়েও আগের বক্তব্যে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইউক্রেনের স্টারলিংক ব্যবহারের শর্ত নির্ধারণের বিষয়টি হোয়াইট হাউজের নয়, বরং সেবাটির পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ও এর প্রধান নির্বাহী মাস্কের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

রুবিওর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বা প্রশাসনের কেউই এ সেবার গতি কমানোর অনুরোধ করেননি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও বলেছেন, স্পেসএক্সের সেবার শর্ত মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে।

স্টারলিংক ও স্পেসএক্সের সামরিক সংস্করণ স্টারশিল্ড নিয়ে এ বিতর্ক এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের যোগাযোগ ও ড্রোন পরিচালনায় স্যাটেলাইট সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের যোগাযোগ, নজরদারি এবং রুশ ড্রোন প্রতিহত করার কাজে স্টারলিংক ব্যবহৃত হয়। ফলে সেবাটির গতি বা সক্ষমতা কমে গেলে ইউক্রেনের সামরিক কার্যক্রম সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ঘটনাটি আরও একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে— যুদ্ধের সময় কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা যখন একটি বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল থাকে, তখন সেই প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত কতটা সামরিক সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

source: Rajneete

Back to top button