News

হরমুজে ৭ ট্যাংকারে আগুন, তেলের দাম ৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে এক রাতেই সাতটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, এসব জাহাজের কয়েকটি সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে এবং কয়েকটি নৌমাইনে আঘাত পেয়েছে। খবরটি এমন সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারটি তেলবাহী জাহাজে তেল এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে স্থানান্তরের সময় আগুন ধরে যায়। আরও তিনটি জাহাজ হরমুজের পশ্চিমে নৌমাইনে আঘাত পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বা অচল হয়ে পড়ে। তবে জাহাজগুলো কোন দেশের পতাকাবাহী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই হরমুজ ও এর আশপাশের জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনা বাড়ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হিসাবে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত হরমুজে অন্তত ১২টি ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছিল, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর যা কোনো এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ।

তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক চাপ

নতুন করে জাহাজে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ দশমিক ৮৮ ডলারে উঠেছে। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দামও বেড়ে ৯৯ দশমিক ১৯ ডলারে পৌঁছেছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। ফলে সেখানে জাহাজ চলাচল যত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হবে, ততই বাড়বে পরিবহন ব্যয়, বিমা খরচ ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা। এরই মধ্যে অঞ্চলটির উত্তেজনার কারণে এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ারবাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রার কাছাকাছি ফিরে এলেও বাজারে ঝুঁকির প্রিমিয়াম কমেনি। কারণ হরমুজে জাহাজ চলাচল এখনো ব্যাপকভাবে ব্যাহত এবং সামুদ্রিক পরিবহনপথে হামলার আশঙ্কা অব্যাহত রয়েছে।

বাড়ছে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা

হরমুজে নতুন করে ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা শুধু জ্বালানি বাজারের জন্য নয়, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। তেহরান আগেই হরমুজের নির্দিষ্ট কিছু পথকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে সেখানে চলাচল বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে।

ফলে কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চললেও সমুদ্রপথে সংঘাতের মাত্রা বাড়ছে। সাতটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ইরানি দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হলে এটি হবে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজে এক দিনে বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সবচেয়ে বড় ঘটনা। আর তার সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ছে তেলের বাজারে, যেখানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এরই মধ্যে ১১২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

source: Rajneete

Back to top button