সৌদিতে বিমানবন্দর ও তেলক্ষেত্রে হামলায় দুই প্রবাসীসহ নিহত ৪, আহত ২ বাংলাদেশি

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় দুই প্রবাসীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নিহত দুই প্রবাসী ফিলিপাইন ও নেপালের নাগরিক। এসব হামলায় আরও ৯ প্রবাসীসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি। তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব হামলা ও হতাহতের খবর দিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুজন নিহত ও আটজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি। এ ছাড়া দুজন ভারতীয়, দুজন ইয়েমেনি, একজন নেপালি ও একজন সৌদি আরবের নাগরিক।
একই দিন সৌদি আরামকোর শাইবাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে আসা একটি ড্রোন প্রতিহত করে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এ সময় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে আগুন ধরে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে। এতে ফিলিপাইন ও নেপালের দুই নাগরিক নিহত এবং পাকিস্তান ও ভারতের দুই নাগরিক আহত হন।
বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, দম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুজনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে একজন নিহত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছিল। আহত আটজনের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। পরে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানানো হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো দাহরানে তাদের সদর দপ্তরের কর্মীদের সরে গিয়ে দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম এমন নির্দেশ দেওয়া হলো বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থাটি। তবে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আরামকো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কারণ জানায়নি।
শাইবাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন প্রতিহত
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, বুধবার সকালে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে অবস্থিত শাইবাহ তেলক্ষেত্রের একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনা লক্ষ্য করে একটি ড্রোন এগিয়ে আসছিল। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি প্রতিহত করে। পরে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে স্থাপনার বাইরে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে আগুন ধরে যায়।
এ ঘটনায় দুই প্রবাসী নিহত এবং আরও দুই প্রবাসী আহত হলেও তেলক্ষেত্রটির উৎপাদন ও কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
শাইবাহ সৌদি আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রগুলোর একটি। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তার জন্য এই স্থাপনাটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
হুতিদের হামলা ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে দেশটির নতুন করে বাড়তে থাকা সংঘাতের মধ্যে ঘটল। রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরব হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল লক্ষ্য করে পালটা হামলা চালিয়েছে এবং নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় আরও পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রও সৌদি আরবে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে নিয়োজিত কিছু কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিকভাবে সংঘাতে জড়ানো থেকে বিরত থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
দম্মাম বিমানবন্দরে হামলা এবং শাইবাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানোর ঘটনা সৌদি আরবের বেসামরিক পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এসব হামলার প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।
source: Rajneete







