কক্সবাজার সৈকতে আরও এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু বেড়ে ৪

কক্সবাজার সমুদ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ মো. হারুন (২০) নামে আরও এক পর্যটকের মরদেহ ভেসে এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে রামু উপজেলার হিমছড়ির প্যাঁচার দ্বীপ সৈকত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছেন।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য সকালে আরও একজনের মরদেহ ভেসে আসার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে কক্সবাজার শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন হিমছড়ি মেরিনা রিসোর্টের জাদুঘর সংলগ্ন সৈকতে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত চারজন হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪) ও সাইবুল হক জিসান (২৩), চট্টগ্রামের চাকরিজীবী মোহাম্মদ আকাশ (২১) ও মো. হারুন (২০)। এছাড়া এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড় (২৩) নামে একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। একই ঘটনায় মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হওয়া রাকিব হাসান (১৯) নামের একজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
পুলিশ, বিচকর্মী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে ঢাকা থেকে কক্সবাজার সমুদ্রে বেড়াতে গিয়ে গতকাল বুধবার তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গোসলে নেমে সাগরে তলিয়ে যান। তাদের বাঁচাতে গিয়ে আরও দুই পর্যটক সাগরে তলিয়ে যান। তাদের একজনের মরদেহ আজ সৈকতে ভেসে এসছে। এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর খোঁজে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও লাইফগার্ড কর্মীরা অভিযান চালাচ্ছেন। উদ্ধার হওয়া চারজনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে হয়েছে বলে জানান হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সোলাইমান হোসেন।
সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম জানান, গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার উত্তরা থেকে সাতবন্ধু বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে দুই দিন ভ্রমণ শেষে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা কক্সবাজারে পৌঁছান। তারা হিমছড়ির প্যাঁচার দ্বীপ জাদুঘরসংলগ্ন একটি রিসোর্টে ওঠেন।
মাহবুব আলম বলেন, খাওয়া-দাওয়া শেষে বিকেল ৪টার দিকে সাতবন্ধু সমুদ্রে গোসলে নামেন। তাদের কেউই সাঁতার জানতেন না। এ সময় ওই এলাকায় আরও তিন-চারজন গোসল করছিলেন। দুইজনকে পানিতে ডুবে যেতে দেখে তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যান সাত বন্ধু। একপর্যায়ে তারাও সমুদ্রের স্রোতের কবলে পড়ে ভেসে যান। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধারে এগিয়ে যান। এ সময় স্থানীয় লোকজন তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এছাড়া কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করেছে।
হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সোলাইমান হোসেন জানান, সাইবুল হক জিসান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোকাররম হোসেনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) বিবিএর শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহত আকাশের সঙ্গে বেড়াতে আসা বন্ধু মোহাম্মদ সানি (২০) বলেন, আমরা চট্টগ্রামে একটি কারখানায় চাকরি করি। পাঁচ বন্ধু মিলে আজ বুধবার কক্সবাজার এসেছিলাম। বিকেলে সাগরে গোসলে নামি। হাঁটু পানিতে ছিলাম। হঠাৎ বড় একটি ঢেউ এসে আছড়ে পড়ি। এ সময় স্রোতের টানে ভেসে যাচ্ছিলাম। পাশে থাকা সাতজনের কাছ থেকে সাহায্য চাই। এগিয়ে এসে তারাও ডুবে যায়। তখন সবাই হাবুডুবু খাচ্ছিলাম। কোনোমতে আমরা ৫-৬জন তীরে উঠে আসি। তিন-চারজনকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করি এবং দুইজন ভেসে যায়।
এর আগে কক্সবাজার সমুদ্রে গোসলে নেমে চলতি বছর ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজার শহরের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলীর তিনকিলোমিটার সৈকত ছাড়া আর কোথাও লাইফগার্ড সেবা নেই বলে জানা গেছে।
source: Asia Post







