News

খিলক্ষেতে টহল দলের ওপর হামলা: বিএনপি নেতাসহ বেশ কয়েকজন আসামি, গ্রেপ্তার ১

রাজধানীর খিলক্ষেতে যৌথ টহল দলের ওপর হামলা চালিয়ে এসআরবি ও পুলিশের ৩ সদস্যকে গুরুতর আহত করার অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান রেনুসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে; এ ঘটনায় ইতোমধ্যে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় করা একটি মামলার পলাতক আসামি মো. রিয়াজুল ইসলামকে (৪৫) রাজধানীর খিলক্ষেতের টানপাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াজুল দাবি করেন, তার কাছে থাকা একটি চোরাই সোনার চেইন খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ আবাসিক এলাকার টানপাড়া রোডের অনন্যা জুয়েলার্সে রবীন্দ্রনাথ সরকার নামের এক ব্যক্তির কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে চেইনটি উদ্ধারে গত ১৩ অক্টোবর দুপুরে এসআরবি ও পুলিশের ৯ সদস্যের একটি যৌথ দল ওই দোকানে যায়।

এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, দোকানে আইনি কার্যক্রম শুরুর পর খিলক্ষেত থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রেনুর নেতৃত্বে সাজু, বাবলুসহ সাত-আটজন সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা আভিযানিক দলের সদস্যদের ঘিরে ফেলেন। এ সময় রেনু উপস্থিত লোকজনকে চেইন ফেরত না দেওয়ার জন্য উসকানি দেন এবং ‘ডাকাত, ডাকাত’ বলে চিৎকার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা লোহার রড, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, রেনু ভারী লোহার রড দিয়ে কনস্টেবল মাহবুবুল হোসেন তপনের মাথায় আঘাত করেন। তিনি হাত দিয়ে আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করলে ডান হাতের কনুইয়ের নিচে গুরুতর জখম হন। পরে তাঁর হাঁটুতেও আঘাত লাগে। অন্যদিকে, সাজুর বিরুদ্ধে এসআরবির ল্যান্স করপোরাল মো. ইসরাইল হোসেনের শার্টের কলার ধরে কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি ধারালো ছুরি দিয়ে মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। বাবলুর বিরুদ্ধে কনস্টেবল গোলাম মোর্শেদকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতি হলে অতিরিক্ত আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় রেনু, বাবলুসহ অন্য অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে সাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। আহত তিন সদস্যকে উদ্ধার করে উত্তরা কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শক এ কে এম জামাল উদ্দিন খান বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় মামলা করেছেন। মামলায় বেআইনি জনসমাবেশ, সরকারি কাজে বাধা, সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলা এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলক্ষেত থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) মো. হাফিজুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা গুরুতর অপরাধ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। রেনু, বাবলুসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

source: Asia Post

Back to top button