News

নবজাতক রেখে ভাইভা দেওয়া সুমাইয়া, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জাহিদের নাম নিয়োগের তালিকায়

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার সুমাইয়া ও জাহিদ হাসানের নাম এসেছে। পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছিলেন তারা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় নিজেদের নাম দেখতে পান তারা।

সুমাইয়া গর্ভকালেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। নবজাতক সন্তানকে রেখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে জাহিদ হাসান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেছিলেন।

গত রোববার এশিয়া পোস্ট অনলাইনে সুমাইয়া ও জাহিদকে নিয়ে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘ভাই বিএনপির এজেন্ট ছিলেন, পদ আছে স্বামী-শ্বশুরেরও; নিয়োগ না পেয়ে সুমাইয়ার আক্ষেপ’ এবং ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জাহিদও বাদ পড়লেন ভেরিফিকেশনে’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের পাশাপাশি আরও কয়েকটি গণমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

সুমাইয়ার অভিযোগ ছিল, পুলিশ ও এনএসআইয়ের ভেরিফিকেশনে তাকে অযৌক্তিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই। ভেরিফিকেশনের বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে তাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।

মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা সুমাইয়া। তিনি সাফা হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং পিরোজপুর মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে পিরোজপুর সোহরাওয়ার্দী কলেজের গণিত বিভাগে ভর্তি হন। পরে ওই বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

এদিকে মঠবাড়িয়া উপজেলায় সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৮৩ জনের মধ্যে জাহিদের মেধাক্রম ছিল ৫৪তম। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটাতেও আবেদন করেছিলেন তিনি। চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন জাহিদ ও তার পরিবারের সদস্যরা।

মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদ হাসানের বয়স ২৮ বছর। তার বাবা আবু জাফর হাওলাদার কৃষক এবং মা জাহানারা বেগম গৃহিণী। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা না থাকলেও পড়াশোনা চালিয়ে যান জাহিদ। সাপলেজা মডেল হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ডক্টর রুস্তম আলী ফরাজী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান জাহিদ।

২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

নিয়োগের তালিকায় নাম আসার পর সুমাইয়া এশিয়া পোস্টকে বলেন, নিয়োগপত্র না পাওয়ার কঠিন সময়ে আমার পাশে দাঁড়িয়ে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য এশিয়া পোস্টের সাংবাদিক ভাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের লেখনী ও সহযোগিতায় আমার সমস্যাটি সবার নজরে এসেছে। আজ আমি আমার কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছি, এ আনন্দের মুহূর্তে আপনাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।

সুমাইয়া আরও বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আপনাদের এই দায়িত্বশীল ভূমিকা আমাকে চিরদিন মনে থাকবে। এশিয়া পোস্ট ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের প্রতি রইল আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা।

তিনি বলেন, এখনো সারা দেশে প্রায় ৮০০ জন প্রার্থী বাদ রয়েছেন। শুনেছি, তাদেরও চাকরি হবে।

জাহিদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, যখন দেখলাম আমার রেজাল্ট আসছে, তখন খুব ভালো লাগছিল। বিশেষ করে আমার পরিবারের জন্য অনেক ভালো লাগছিল। কারণ, আমার পরিবারের সবাই ভেঙে পড়ছিল। পিরোজপুরের ওয়েবসাইটে আমার চাকরির খবর দেখে প্রথমে আব্বুকে ফোন দিয়েছিলাম। তখন তিনি আলহামদুলিল্লাহ পড়ছিলেন। পরে আম্মুকে ফোন দিলে তিনি কান্না করে দেন।

জাহিদ আরও বলেন, আমি সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ জানাচ্ছি গণমাধ্যমগুলোকে। তারা আমার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। যার কারণে বিষয়টি মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গেছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি কখনো ভাবিনি, আমার জীবনে এমন কিছু ঘটবে। সরকারকেও ধন্যবাদ জানাই, কারণ তারা পুনরায় আমার চাকরিটি ফিরিয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে পিরোজপুরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।

পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২৪৪ জন প্রার্থীর মধ্যে দুই ধাপে মোট ২৪২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। অন্য প্রার্থীরা নিয়োগপত্র পেলেও জাহিদ ও সুমাইয়া তা পাননি।

source: Asia Post

Back to top button