News

তেহরানে কারাবন্দি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যঙ্গ করতে এবার অভিনব আয়োজন করেছে ইরান। রাজধানী তেহরানের উত্তরাঞ্চলের অভিজাত এলাকার তাজরিশ স্কয়ারে বসানো হয়েছে একটি কৃত্রিম কারাকক্ষ। আর সেই কারাকক্ষের ভেতরে বন্দির বেশে দাঁড়িয়ে আছেন ট্রাম্প!

তবে কারাকক্ষের ভেতরে থাকা ব্যক্তি আসল ট্রাম্প নন। তার মুখোশ পরা এক অভিনেতাকে দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম। স্থাপনাটি দেখতে চত্বরে থামছেন পথচারীরা। কেউ সেলফি তুলছেন, আবার কেউ ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

তাজরিশ স্কয়ারে বিলবোর্ডের আদলে তৈরি কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে কয়েক তলা উঁচু একটি প্রতীকী কারাকক্ষ। এর ভেতরে থাকা অভিনেতার পরনে গাঢ় রঙের স্যুট ও লাল টাই। মুখে ট্রাম্পের মতো দেখতে কৃত্রিম মুখোশ। কখনো তাকে কারাকক্ষের ভেতর পায়চারি করতে, কখনো শিক ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে, আবার কখনো বিছানায় বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

কারাকক্ষটির পাশে থাকা একটি পর্দায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘যুদ্ধাপরাধে’র নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন বার্তা দেখানো হচ্ছে। স্থাপনাটিতে লেখা রয়েছে, ‘এই দৃশ্য না দেখাটাই অপরাধ।’

যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা ইরানের রাজধানীর রাস্তায় নতুন কিছু নয়। এর আগেও তেহরানের বিভিন্ন বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করার পাশাপাশি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির গৌরব তুলে ধরা হয়েছে। তবে এবার কারাকক্ষের ভেতর ট্রাম্পের আদলে একজনকে বন্দি দেখিয়ে প্রচারণায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করে আসছে তেহরান। ইরানের পৌর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, রাজধানীর বাসিন্দাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবির কথা স্মরণ করিয়ে দিতে এই প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে।

স্থাপনাটি ঘিরে স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে নানা রকম। কেউ কেউ বিষয়টি উপভোগ করছেন। এক পথচারী মজা করে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘চিন্তা করবেন না, আমরা আপনার জামিনের টাকা দেবো এবং আপনাকে বের করে আনব!’ আবার এক কিশোরকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘ট্রাম্প, এবার আমরা তোমাকে মেরে ফেলব!’

তেহরানের এই আয়োজন এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। সামরিক ও কূটনৈতিক পাল্টাপাল্টির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে প্রচারণার লড়াইও চলছে। কারাকক্ষের ভেতর ট্রাম্পের প্রতিকৃতি দেখিয়ে ইরান একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরছে, অন্যদিকে ন্যায়বিচারের দাবিও সামনে আনছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইসরায়েলে পালটা হামলা চালায় তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়। যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামে অস্থিরতা দেখা দেয়, যা এখনো অব্যাহত।

২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুসারে, ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৮৬০ জনের বেশি। আর ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে অন্তত ১ হাজার ৯০০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ২০ হাজার।

অন্যদিকে, লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ১৪২ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৩১৫ জন আহত হয়েছেন। আর ইরাকের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এ পর্যন্ত অন্তত ৯৬ জন মারা গেছেন।

তথ্যসূত্র: এএফপি, ডন এবং দ্য প্রিন্ট

source: Rajneete

Back to top button