News

ফ্লাভিও ৪৭%, লুলা ৪৫%— ২য় দফায় গড়াচ্ছে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

প্রথম দফার ভোটে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেলেন ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। তবে প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশের বেশি ভোট কেউ না পাওয়ায় ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গড়াচ্ছে দ্বিতীয় দফায়। আগামী ২৫ অক্টোবর মুখোমুখি হবেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা।

রোববারের ভোট গণনা প্রায় শেষ হওয়ার পর সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্টের (টিএসই) হিসাবে ফ্লাভিও পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট। তার ভোটসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৬১ লাখ। লুলা পেয়েছেন ৪৫ দশমিক ১৫ শতাংশ বা প্রায় ৫ কোটি ৩৮ লাখ ভোট। ৯৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের ফল গণনার পরও ব্যবধান মাত্র প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপির খবরে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের নির্বাচনি আইনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম দফায় জয়ী হতে হলে বৈধ ভোটের অর্ধেকের বেশি পেতে হয়। কেউ সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফা ভোট হয়। ফলে আগামী ২৫ অক্টোবর ফ্লাভিও ও লুলার মধ্যেই হবে চূড়ান্ত লড়াই।

প্রথম দফায় তৃতীয় হয়েছেন লেখক ও চিকিৎসক অগাস্তো কুরি। তিনি পেয়েছেন ২ দশমিক ৮৯ শতাংশ বা প্রায় ৩৪ লাখ ৪৮ হাজার ভোট। চতুর্থ হয়েছেন রেনান সান্তোস, পেয়েছেন ২ দশমিক ২৫ শতাংশ বা প্রায় ২৬ লাখ ৭৬ হাজার ভোট। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৮ দশমিক ৯২ শতাংশ, অনুপস্থিত ছিলেন ২১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার। সাদা ও বাতিল ভোট ছিল যথাক্রমে ১ দশমিক ৮৪ ও ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

নির্বাচনের আগের দিন প্রকাশিত সর্বশেষ একটি জরিপে লুলাকে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। ৩ অক্টোবর প্রকাশিত সিএনটি/এমডিএ জরিপে বৈধ ভোটের হিসাবে লুলার সমর্থন ছিল ৪৭ দশমিক ৮ শতাংশ, আর ফ্লাভিওর ৪২ দশমিক ১ শতাংশ। কিন্তু ভোটের ফলাফলে চিত্র উলটে যায়।

ফ্লাভিওর এই ফলকে রয়টার্স প্রত্যাশার তুলনায় শক্তিশালী পারফরম্যান্স হিসেবে উল্লেখ করেছে। ভোটের প্রচারে তিনি মূল্যস্ফীতি, অপরাধ ও সরকারি ঋণের মতো অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে রেখেছিলেন। ব্যবসাবান্ধব অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ফল প্রকাশের পর ফ্লাভিও বলেন, ভোটের ফল দেখিয়েছে ‘ব্রাজিল পরিবর্তন চায়’। অন্যদিকে লুলা দ্বিতীয় দফার লড়াইয়ে নিজের সরকারের অর্জন ও সামাজিক কর্মসূচিকে সামনে রাখার কথা জানিয়েছেন।

জাইর বলসোনারোর উত্তরাধিকার

ফ্লাভিও বলসোনারো প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে এবং বর্তমানে রিও ডি জেনেইরোর সিনেটর। ৪৫ বছর বয়সী এই প্রার্থী বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে সামনে রেখে ডানপন্থি ভোটের বড় অংশ নিজের দিকে টানতে সক্ষম হয়েছেন।

জাইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তর ঠেকাতে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের মামলায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার রাজনৈতিক আন্দোলন ও সমর্থকগোষ্ঠীর বড় অংশ এখন ফ্লাভিওর পেছনে রয়েছে।

প্রথম দফার ফলাফলে ব্রাজিলের কংগ্রেস ও বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনেও ডানপন্থি শক্তির ভালো ফল দেখা গেছে। ফলে দ্বিতীয় দফার পাশাপাশি আগামী দিনের আইনসভা ও নির্বাহী ক্ষমতার সম্পর্কও নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

সামনে ৩ সপ্তাহের লড়াই

প্রথম দফায় তৃতীয় ও চতুর্থ হওয়া প্রার্থীদের ভোট এখন দ্বিতীয় দফার সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে তাদের কেউই এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেননি। ফলে প্রায় ৬ শতাংশ বৈধ ভোট পাওয়া এই দুই প্রার্থীর সমর্থকদের অবস্থান ও ভোটারদের উপস্থিতি দ্বিতীয় দফার প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এদিকে লুলা ও ফ্লাভিওর লড়াইয়ে ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হয়েছে। লুলা তার সরকারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতির পক্ষে ভোট চাইবেন, আর ফ্লাভিও পরিবর্তন ও তার বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানকে সামনে রাখবেন।

আগামী ২৫ অক্টোবরের দ্বিতীয় দফার ভোট তাই শুধু দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াই নয়, এটি ব্রাজিলের রাজনীতিতে লুলার নেতৃত্বাধীন বাম ঘরানা এবং বলসোনারো পরিবারের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি রাজনীতির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতারও চূড়ান্ত পর্ব হতে যাচ্ছে।

source: Rajneete

Back to top button