মতামত

মমতাময় অনুব্রত মন্ডল

আধুনিক বিশ্বের গণতান্ত্রিক সভ্যতার উজ্জ্বল নক্ষত্র তথা ভারত বর্ষের পরিচ্ছন্ন রাজনীতির অহঙ্কার বাংলার মুখপাত্র আপোষহীন নেত্রী, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সুযোগ্য সভানেত্রী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। সুদীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়কাবা মন্দিরে ঠাঁই করে নিয়েছেন তিনি।
২০১১ সালের শেষ দিকে ব্লক সভাপতি শ্রদ্বেয় বিনয় কুমার ঘোষ কাকুর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নানুর-সিঙ্গুর আন্দোলন, মা মাটি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস জানার সৌভাগ্য হয়। জানার সুযোগ হয় বাংলার একটা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে একটা সাধারণ স্কুলের শিক্ষিকা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বর্ণাঢ্য সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে।   ভারত বর্ষের এই কিংবদন্তী রাজনীতিক এর সংগ্রামের মধ্যে আরেকটি নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তিনি হলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত হাতিয়ার, বাংলার রাখাল রাজা বীরভুম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কান্ডারী তথা সভাপতি অনুব্রত মন্ডল অর্থাৎ আমাদের সকলের প্রিয় কেষ্ট দাদা।
যুব কংগ্রেস থেকেই দিদির সাথে কেষ্ট দাদার বন্ধন। তারই ধারাবাহিকতায় তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে জোড়াফুল ঘাসফুলের প্রতীক নিয়ে অনবরত ছুটে চলেছেন দিদির বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন কেষ্ট দাদা। বাংলার প্রতিটি প্রান্তরে এখন ঘাসফূলের সুঘ্রাণ থাকলেও শুরুটা এতটা মসৃণ ছিলো না বরং তৎকালীন শাসকের চমকানি, ধমকানি, নিষ্ঠুর, জুলুম, নিরযাতনের শিকার হতে হয়েছে। বামফ্রন্ট সরকারের শত আঘাতের পরও দিদি এবং কেষ্ট দাদার বন্ধন ছিন্ন করতে পারেনি বরং তা আরো ইস্পাত কঠিন মজবুত হয়েছে। দিদির নেতৃত্বে মা মাটি মানুষের অধিকার আদায়ের যে আন্দোলন সংগ্রামে হয়েছে সেখানে কেষ্ট দাদা বুক চিতিয়ে দিয়েছেন। অনেকের কাছে এমএলএ/এমপি/মন্ত্রী পদটা খুব লোভনীয় হলেও ব্যক্তি কেষ্টদার কাছে এগুলো যেন অতি তুচ্ছ একটা ব্যাপার। দীর্ঘদিন যাবত বীরভুমে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সৈনিকদের ঐক্যবদ্ধ রেখে অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ঠিকই কিন্তু কখনও তাকে এমএলএ/এমপি/মন্ত্রী হিসেবে  কেউ দেখেনি। 
সংগ্রামী দুই ব্যক্তিত্বের সংগ্রাম কাহিনী শুনে তখন ভীষণ ইচ্ছে হচিচ্ছলো তখন, ইস যদি  উনাদের যদি কাছ থেকে দেখতে পেতাম, পা ছুয়ে আশীর্বাদ নিতে পারতাম তাহলে এ জীবনে হয়ত একটু  পূর্ণতার তৃষ্ণা মেটাতে পারতাম। নিজের মধ্যে ভীষণ একটা অস্থিরতা চলছে। অপেক্ষায় আছি কবে দেখা পাবো সংগ্রামী ব্যকিত্ত্বদের দেখা। ২০১৩ সালের মাঝামাঝির দিকে বিনয় কাকু-ই আমাকে কেষ্টদার কাছে নিয়ে গেলেন। সেই থেকে দাদার পদধূলিকে আমার নিজের চলার পাথেয় হিসেবে নিয়েছি। দাদার সান্নিধ্যে থেকে দিদিকে দেখার সাধও মিটিয়েছি। সেই থেকে দিদির আদর্শে আর কেষ্ট দাদার অনুপ্রেরণায় আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মা মাটি মানুষের কাছে ঘাসফুলের সুঘ্রাণ পৌঁছে দিচ্ছি।   
কর্মী, দল ও দেশবান্ধব নেতা প্রিয় কেষ্ট দাদার থেকে আমি শিখেছি-নেতৃত্ব কোনো টাইটেল বা পদ নয়, নেতৃত্ব হলো একজন মানুষের অন্যদের প্রভাবিত ও অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা। মমতা বন্দোপাধ্যায় বাংলার মানুষের কাছে এবং কেষ্ট দা বীরভূমের মানুষের কাছে বারংবার সে প্রমাণ দিয়েছেন। 
তৃণমূল পরিবার থেকে শিখেছি-একজন নেতাকে অবশ্যই স্বপ্নদর্শী হতে হবে, দুরদর্শী সম্পন্ন হতে হবে। আমি দেখি, বাংলা তথা মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকার আজ যা করে, পরদিন গোটা ভারতবর্ষ তাই করে এবং তারপরের দিন বিশ্ববাসী সেটা অনুসরণ করে। যার প্রমাণ কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, সবুজ সাথী, সমব্যাথীসহ আরও প্রকল্প রয়েছে যার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে সাধারণ মানুষের সেতৃবন্ধন তৈরি করেছে। কারণ তৃণমূল কংগ্রেস জন্ম থেকে মৃত্যু পরযন্ত মানুষের সাথে রয়েছে।

লেখক : শিল্পী মুরারি, তৃণমূল কর্মী 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *